ছাত্রনেতা মুহাম্মদ নুরুদ্দীন

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় পরিষদের সুযোগ্য ও সুদক্ষ সাধারণ সম্পাদক মুহতারাম মুহাম্মদ নুরুদ্দীন।। ১৯৯৫ সালের ১৯এ মার্চ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ধনশ্রী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত সুফি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পিতা ছিলেন একজন বুজুর্গ একাডেমিক আলেম মরহুম মাওলানা আব্দুল মালেক ও দাদা ছিলেন একজন বুজুর্গ সুফি ব্যক্তিত্ব (আবুল হাসিম মুন্সি)।

পিতার দিক হতে ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম বুজুর্গ হযরত শাহদানা শাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি’র ১৯তম অধ্বস্তন বংশধর মুহাম্মদ নুরুদ্দীনের প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু হয় হবিগঞ্জ উপজেলার কাচুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমে। পরবর্তীতে চুনারুঘাট হাজী আলিম উল্লাহ সিনিয়র মাদ্রাসায় নিম্ন মাধ্যমিক, দ্বিমুড়া রহমানীয়া ফাজিল মাদ্রাসায় বিজ্ঞান বিভাগে দাখিল (এসএসসি) এবং সিলেট সরকারী আলিয়া মাদ্রাসায় বিজ্ঞান বিভাগে আলিম (এইচএসসি) পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে পাশ করার মাধ্যমে অনার্স জীবনে পদার্পন করেন তিনি।

শিক্ষাজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং এই অনার্স জীবন শুরু করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বৃন্দাবন সরকারী কলেজে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হয়ে। সফলতার সাথে অনার্স শেষ করার পূর্বেই তিনি নিজের জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত করনের তৃষ্ণায় মগ্ন হয়ে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ‘স্কিলস এন্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট কোর্স’ সম্পন্ন করেন ২০১৪ সালে। পরবর্তীতে ‘আর্কিটেকচার এন্ড ইন্টেরিয়র ডিজাইন’-এ হবিগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট হতে ২০১৮ সালে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং-ও সম্পন্ন করেন মুহাম্মদ নুরুদ্দীন। বর্তমানে তিনি বৃন্দাবন সরকারী কলেজে এমএসসি নিয়ে অধ্যয়নরত আছেন। পাশাপাশি হোমিওপ্যাথি নিয়ে ডিএইচএমএস কোর্সে পড়ালেখা করছেন জালালাবাদ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনায় মুহাম্মদ নুরুদ্দীন উল্লেখযোগ্য সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন ২০১০-১১ সেশনে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে। পরবর্তীতে একই উপজেলায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সাংগঠনিক যোগ্যতার পরিচয় দেন ২০১১-১২ সেশনে। একই বছর তিনি হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য নির্বাচিত হয়ে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে ২০১৬-১৭ সেশনে উক্ত জেলার সাধারন সম্পাদক, ২০১৭-১৮ সেশনে সহ-সভাপতি, ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ সেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করে নজর কাড়া সাংগঠনিক দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। এরইমধ্যে ২০১৯-২০ সেশনে কেন্দ্রীয় ছাত্রসেনার সদস্য নির্বাচিত হয়ে জাতীয় পর্যায়েও নিজের দক্ষতাকে ছড়িয়ে দিতে কাজ করেন তিনি। মধ্যখানে সাংগঠনিক কারনেই বৃন্দাবন সরকারি কলেজে আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন মুহাম্মদ নুরুদ্দীন।

দীর্ঘদীন তিনি দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি শিক্ষা ট্রাস্ট শহিদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি সংসদের উপজেলা ও জেলা শাখার দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেন।

একজন মেধাবী ছাত্র, একজন প্রাণিবিজ্ঞান গ্র্যাজুয়েট, একজন প্রকৌশলী, একজন হোমিওপ্যাথ ডাক্তার এবং সর্বোপরি একজন দক্ষ সংগঠক হওয়ার পাশাপাশি মুহাম্মদ নুরুদ্দীনের অন্যতম বড় পরিচয়- তিনি একজন সাহিত্যিক ও কবি। ২০১৪ সালে তাঁর সর্বপ্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতারা আমার বুকে বাসা বেঁধেছে’ প্রকাশিত হয়ে তাঁর কবিপ্রতিভার প্রমাণ উপস্থাপন করে সবার মাঝে। তিনি একজন সচেতন শিক্ষানুরাগীও। গ্রামে-গঞ্জে শিক্ষার আলোকে ছড়িয়ে দিতে পাঠাগার নিয়ে কাজ করছেন বহুদিন যাবৎ। একজন সাংবাদিক ও সম্পাদক হিসেবে তিনি ইতিহাস-ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘শিখা’র সম্পাদকের গুরুদায়িত্ব পালন করছেন বহুসময় ধরে। এছাড়াও নিয়মিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করে আসছেন পত্রিকা, সাময়িকী, ম্যাগাজিন সহ বিভিন্ন কাগজে।

এতসব ছাড়াও বহুগুণের আঁধার মুহাম্মদ নুরুদ্দীন বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক সাহিত্য সংগঠনের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থেকে নিজের সাংগঠনিক মেধা দিয়ে দেশ-জাতি ও জনগণের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন নিয়মিত।
আল্লাহপাক বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুহতারাম মুহাম্মদ নুরুদ্দীনের হায়াতে বরকত দান করুক; তাঁর মেধা, প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতায় আরও বহুগুণ বরকত দান করুক, আমিন, সুম্মা আমিন।

Leave a Reply