You are currently viewing হজরত মা ফাতেমাতুজ জাহরা রাদ্বিআল্লাহু তা’আলা আনহা- নারী জাতির এক অনুপম আদর্শের নাম।

হজরত মা ফাতেমাতুজ জাহরা রাদ্বিআল্লাহু তা’আলা আনহা- নারী জাতির এক অনুপম আদর্শের নাম।

হজরত মা ফাতেমাতুজ জাহরা রাদ্বিআল্লাহু তা’আলা আনহা-
নারী জাতির এক অনুপম আদর্শের নাম।
_____________________________________________________
ইসলামের ইতিহাসে যেসব মহামানবীগণ স্বমহিমায় মহিমান্বিতা ও সমুজ্জ্বল হয়ে আছেন তাঁদের মধ্যে হজরত মা ফাতেমাতুজ জাহরা রাদ্বিআল্লাহু তা’আলা আনহা হলেন অন্যতম।
ফাতম্ শব্দের শাব্দিক অর্থ রক্ষা করা, মুক্ত করা। রাসুল (দ.) বলেন: “তাঁর নামকরণ করা হয়েছে ফাতেমা। কারণ,আল্লাহ তাঁকে ও তাঁর পরিবার, এবং অনুসারীদের জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত রেখেছেন।” জাহরা শব্দের অর্থ ফুলের কলি। হাদিসে পাকে এসেছে যে, তাঁর শরীর মোবারক হতে বেহেশতের খুশবু আসতো বিধায় রাসুলুল্লাহ দ. বেহেশতের খুশবু নিতেন। (সুবহানাল্লাহ)
তাঁর কুনিয়ত, তথা উপনাম সমূহের মধ্যে উম্মে আবীহা, উম্মে হাসান, উম্মে হুসাইন অন্যতম। উপাধি ছিলো আল-বতুল, আস-সিদ্দীকাহ, আত-তাহীরাহ, আল-মুবারাকাহ ইত্যাদি। তন্মধ্যে আল-বতুল হলো সবচেয়ে অনন্য উপাধি। রাসুল তনয়া হযরত মা ফাতেমা রাদ্বি. ২০ই জমাদিউস সানি (রাসুল দ. এর নবুয়ত লাভের ৫ম বছরে) মক্কা-মুকাররামায় শুভ জন্মগ্রহণ করেন।
হযরত ফাতেমা (রাদ্বিআল্লাহু তা’আলা আনহা) দশ বছরে উপনীত হলে তাঁর মাতা হযরত খাদিজাতুল কুবরা (রাদ্বিআল্লাহু তা’আলা আনহা) ইন্তেকাল করেন। শিক্ষার প্রতি তাঁর অত্যন্ত অনুরাগ ছিলো। তিনি ছোটবেলা থেকেই প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন।
তিনি ১৫ বছরে (মতান্তরে ২০ বছরে) উপনীত হলে হজরত আলী (রাদ্বিআল্লাহু তা’আলা আনহু) এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তখন হজরত আলী (রাদ্বিআল্লাহু তা’আলা আনহু) এর বয়স ছিল ২১ বছর।
তাদের মোট তিন পুত্র ও তিন কন্যা ছিলেন। তারা হলেন যথাক্রমে ইমাম হাসান (রাদ্বিআল্লাহু তা’আলা আনহু), ইমাম হুসাইন (রাদ্বিআল্লাহু তা’আলা আনহু), জয়নাব (রাদ্বিআল্লাহু তা’আলা আনহু), উম্মে কুলসুম (রাদ্বিআল্লাহু তা’আলা আনহা), হযরত রুকাইয়া (রাদ্বিআল্লাহু তা’আলা আনহা) ও হজরত মুহসিন (রাদ্বিআল্লাহু তা’আলা আনহু)। (মুহসিন (রাদ্বিআল্লাহু তা’আলা আনহু) গর্ভাবস্থায় মতান্তরে শিশু অবস্থায় ইন্তেকাল করেন)।
হযরত ফাতেমাতুজ জাহরা রাদ্বিআল্লাহু তা’আলা আনহা এর সত্যবাদীতা ছিলো অতুলনীয়। উম্মুল মুমিনীন হযরত মা আয়েশা (রাদ্বিআল্লাহু তা’আলা আনহা) এ সম্পর্কে বলেছেন, “ফাতেমার পিতা (রাসুলুল্লাহ দ.) ব্যতীত ফাতেমার চেয়ে অধিক সত্যবাদী কাউকে আমি দেখিনি।” তিনি বহুগুণে গুণান্বিতা ছিলেন। একাধারে দানশীলতা, বদান্যতা, সত্যবাদীতা, পর্দাশীন, ন্যায়পরায়ণতা সহ আরো অনেক আখলাকে হামিদাতে শীর্ষে ছিলেন।
পবিত্র কুরআন মাজীদে হযরত মা ফাতিমার মর্যাদা তথা আহলে বায়তের শানে সুরা আহযাবের ৩৩নং আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন,
“হে নবি-পরিবার! আল্লাহ তো চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে, এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।”
পবিত্র হাদিসে পাকে রাসুলুল্লাহ দ. এরশাদ করেছেন, “চারজন নারী বিশ্বের নারীদের সর্দার। ইমরানের কন্যা মারইয়াম আ. (হযরত ঈসা আ. এর মাতা), মুযাহিমের কন্যা আসিয়া আ. (ফেরাউনের স্ত্রী), খোওয়াইলিদের কন্যা খাদিজা রাদ্বিআল্লাহু তা’আলা আনহা (মহানবী দ. এর স্ত্রী), এবং অপরজন হলেন মুহাম্মাদ (দ.) এর কন্যা ফাতেমা (রাদ্বিআল্লাহু তা’আলা আনহা),
যিনি হচ্ছেন এদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ট।”
হযরত মা ফাতেমাতুজ জাহরা মোট ১৮টি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে ১টি হাদিস মুত্তাফাকুন আলাইহি। এই মহীয়সী নারী ১১হিজরির ১৩ই জমাদিউল আউয়াল ৩ই রমজান মহান রাব্বুল আলামিনের ডাকে সাড়া দিয়ে আখিরাতের পথে পাড়ি জমান।
আজ পবিত্র ৩ই রমজান হজরত মা ফাতেমাতুজ জাহরা রাদ্বিআল্লাহু তা’আলা আনহা’র পবিত্র ওরস মোবারক।
আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে উনার ফয়ুজাত-বারাকাত দান করুক।
কাজী মুহাম্মদ জুনাইদ জাকী।
সদস্য, বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রসেনা,
চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ।
অর্থ সম্পাদক, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ শাখা।

Leave a Reply