রোজার গুরুত্ব ও রোজাদারের ফযিলত

You are currently viewing রোজার গুরুত্ব ও রোজাদারের ফযিলত

মাওলানা মুহাম্মদ আনিসুর রহমান রিজভি

________________________

ইসলামের পঞ্চভিত্তির মধ্যে রোজা অন্যতম। প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর উপর রোজা রাখা ফরয। এই বিধান স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এসেছে। তিনি উম্মতে মুহাম্মদীর উপর পবিত্র কুরআনুল কারীম নাযিল এবং একমাস ব্যাপী ধারাবাহিকভাবে রোজা রাখার বিধান নাযিল করেছেন। রোজাদার বান্দাগণকে আল্লাহ তায়ালা অধিক পছন্দ করেন। আর রোজাদার বান্দাগণও এই মাসে রোজা ও অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্যবান ও প্রিয় বান্দা হওয়ার চেষ্টা করে। আজকের প্রবন্ধে রমজানের রোজার গুরুত্ব ও রোজাদারের ফযিলত সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা করার প্রয়াস পাচ্ছি।

রোজার পরিচয়:
রোজা ফারসি শব্দ। হিন্দি ও উর্দুতেও একই শব্দটি ব্যবহার হয়। রোজা এর আরবি প্রতিশব্দ হলো সাওম। সাওম এর শাব্দিক অর্থ সাধারণভাবে বিরত থাকা। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় নিয়ত সহকারে দিনের বেলায় সূর্যোদয় হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যাবতীয় পানাহার ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকাকে সাওম বলে।

রোজা রাখার নির্দেশ:
মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনুল কারীমে রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে ঈমানদারগণ ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে। যেরূপ ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পারো। (সূরা বাকারা, আয়াত-১৮৩)

অন্যান্য নবীদের উপর রোজার বিধান:
রোজা শুধু উম্মতে মুহাম্মদীর উপর ফরয এমনটি নয়, বরং যুগে যুগে সকল নবীর উপর রোজার বিধান আরোপিত ছিল। আমাদের আদি পিতা এবং প্রথম নবী হযরত আদম আলাইহিস সালামের উপরও রোজার বিধান ছিল। তিনি আইয়ামুল বীজের রোজা রাখতেন। অন্যান্য নবীদের উপর রোজার যেসব বিধান এবং পদ্ধতি নাযিল করা হয়েছিল তা নিম্নে সংক্ষিপ্তাকারে আলোচনা করা হলো

হযরত আদম আলাইহিস সালামের রোজা:
আমাদের আদি পিতা ও প্রথম নবী হযরত আদম আলাইহিস সালামের উপর আইয়ামে বীজ তথা প্রতিমাসের ১৩,১৪,১৫ তারিখের রোজা রাখা ফরয ছিল। হযরত আনতারাহ (রা.), হযরত আলী (রা.) এর নিকট জিজ্ঞাসা করলেন, ঐদিন সমূহকে আইয়ামুল বীজ কেন বলা হয়? উত্তরে হযরত আলী (রা.) বলেন, হযরত আদম আলাইহিস সালামকে যখন জান্নাত থেকে পৃথিবীতে প্রেরণ করা হলো তখন সূর্যের তাপে তাঁর সমস্ত শরীর জ্বলে পুড়ে কালো হয়ে গিয়েছিল। ওই সময় হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম এসে হযরত আদম আলাইহিস সালামের কাছে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি পুনরায় ফর্সা হতে চান? তখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম বললেন,জী হ্যাঁ। তখন তাকে বলা হলো,তাহলে আপনি ১৩,১৪,১৫ তারিখে রোজা রাখুন। হযরত আদম আলাইহিস সালাম যখন প্রথম রোজা রাখলেন তখন তার শরীরের তিনভাগের একভাগ ফর্সা হয়ে গেল। এভাবে দ্বিতীয় রোজায় তিনভাগের দুইভাগ এবং দ্বিতীয় রোজায় পুরো শরীরের ত্বক সাদা হয়ে গেল। এ কারণে ওই দিনগুলোকে আইয়ামুল বীজ বলা হয়। (হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রা), গুনিয়াতুত তালেবীন)

হযরত মূসা আলাইহিস সালামের রোজা:
জলিলুল কদর পয়গম্বর হযরত মুসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর উম্মতের উপরও রোজার বিধান ছিল। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর উম্মতগণ পবিত্র আশুরার রোজা এবং শনিবারে রোজা রাখতেন। এই রোজা গুলো তাদের উপর ফরয ছিল। (আব্দুল আযীয মুহাদ্দিসে দেহলভী, তাফসিরে আজিজী)

হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের রোজা:
হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর উম্মতের উপর রোজার বিধান হলো আমাদের মতো মাহে রমজানের রোজা তাদের উপরও ফরয ছিল‌। কিন্তু তারা বিভিন্ন কারণে রোজার সংখ্যা বাড়াতে বাড়াতে দুই মাস তথা ৬০দিনে রূপান্তরিত করেছিল। (আব্দুল আযীয মুহাদ্দিসে দেহলভী, তাফসিরে আজিজী)

রমজানের রোজা ফরয হওয়ার পূর্বে নবীজির রোজা:
মাহে রমজানের রোজা ফরয হওয়ার পূর্বে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরামগণ আশুরা এবং আইয়ামে বীজের রোজা সমূহ রাখতেন। অনেকের মতে তখন এই রোজা সমূহ ফরযের মতো আবশ্যক না হলেও নবীজি এবং সাহাবায়ে কেরামগণ ছেড়ে দিতেন না। অতঃপর দ্বিতীয় হিজরীতে মাহে রমজানের রোজা ফরয হলে এই রোজা সমূহ নফল হিসেবে আদায় করা হতো,‌ যার বিধান নফল হিসেবে এখনো বহাল রয়েছে।

রোজা ইসলামের পঞ্চ বুনিয়াদের অন্যতম:
রোজা ইসলামের পঞ্চ বুনিয়াদের মধ্যে চতুর্থ। যেমন হাদিসে পাকে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি। যথা
১. সাক্ষ্য দেয়া আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসুল।
২. সালাত কায়েম করা।
৩. যাকাত প্রদান করা।
৪. রমজান মাসের রোজা রাখা।
৫. পাথয়ের সামর্থ্য থাকলে হজ্ব করা।
উপর্যুক্ত পাঁচটি বিষয়ই হলো ইসলামের মূল ভিত্তি। এগুলোর উপর নির্ভর করে মুমিনদের জীবন পরিচালনা করতে হয় এবং মুমিনগণ তাদের জীবন পরিচালনা করে থাকে।
(বুখারী ও মুসলিম, মিশকাত শরীফ-১২)

পবিত্র কুরআনের আলোকে রোজার ফযিলত:
মাহে রমজানের রোজা ও রোজাদারদের ফজিলত সম্পর্কে পবিত্র কুরআনুল কারীমের অসংখ্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা রোজার গুরুত্ব ও রোজাদারদের ফযিলত এবং তাদের পুরস্কারের কথা বর্ণনা করেছেন।
যেমন আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ধৈর্যশীলদেরকেই তাদের পরিপূর্ণ অগণিত প্রতিদান দেয়া হয়। (সূরা যুমার, আয়াত-১০)
অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, তোমরা ধৈর্য্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।(সূরা বাকারা, আয়াত-১৫৩)

কুরআন কারীমের আলোচ্য দুই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যশীলদের পুরস্কারের কথা বলেছেন। আর রোজাদারগণ দীর্ঘ সময় রোজা রাখেন এবং সকল প্রকার পানাহার থেকে বিরত থাকেন। যেহেতু তারা রোজা রাখার মাধ্যমে ধৈর্যের পরিচয় দেন, সেহেতু তারাই প্রকৃতপক্ষে ধৈর্যশীল এবং সহনশীল।
তাছাড়া হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজ্জালী বলেন, উপর্যুক্ত আয়াতে কারীমাদ্বয়ে সবর তথা ধৈর্যের অর্থ রোজা এবং সবরকারী তথা ধৈর্যধারণকারী দ্বারা রোজাদারকে বুঝিয়েছেন।

পবিত্র হাদিসের আলোকে রোজার ফযিলত:
মাহে রমজানের রোজা রোজাদারকে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করে দেয়। যেমন হাদিস পাকে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও একনিষ্ঠতা সহকারে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় রোজা রাখে তার পূর্ববর্তী সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। (বুখারী ও মুসলিম, মিশকাত শরীফ-১৭৩)

অপর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি বিশ্বাস ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে রমজান মাসে রোজা রাখবে সে মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ নিষ্পাপ শিশুর মতো গুনাহ থেকে নিষ্পাপ হয়ে যাবে।

অন্য রেওয়ায়েতে আছে, যে ব্যক্তি রমজান মাসের রোজা প্রথম হতে শেষ পর্যন্ত পালন করবে সে মাতৃগর্ভ হতে ভূমিষ্ঠ নিষ্পাপ শিশু ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে যাবে। (বুখারী ও মুসলিম, মিশকাত শরীফ-১৭৩)

রোজাদারগণ আল্লাহর দিদার লাভ করবে:
যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রোজা রাখে আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে পুরস্কৃত করবে। আর এই পুরস্কার হলো, জান্নাতে আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে দিদার দান করবে। যেমনিভাবে হাদিসে পাকে এসেছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, রোজাদার বান্দাদের জন্য দুটি খুশি। একটি ইফতারের সময়, বান্দা যখন ইফতার করবে। অন্যটি পরকালে বান্দা যখন তার প্রভুর সাথে সাক্ষাতের করবে। (বুখারী ও মুসলিম)

রোজাদারের মুখের গন্ধ মেশকর চেয়েও সুগন্ধি:
যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রোজা রাখে যদিও তাদের মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। কিন্তু এই দুর্গন্ধ আল্লাহ তায়ালার নিকট মেশকের চেয়েও বেশি সুগন্ধিযুক্ত। যেমনিভাবে হাদিসে পাকে এসেছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশকের চেয়েও বেশি সুগন্ধি। (বুখারী ও মুসলিম, মিশকাত শরীফ-১৭৩)

রোজা রোজাদারের জন্য ঢাল স্বরূপ:
জিহাদের ময়দানে যুদ্ধ করার সময় মুজাহিদদের ডান হাতে থাকে তরবারী আর বাম হাতে থাকে লোহার তৈরি ঢাল। আর এই ঢালের মধ্যমে মুজাহিদরা‌ শত্রুদের আঘাতকে ঠেকায় এবং নিজেদেরকে রক্ষা করে।মুজাহিদরা যেভাবে ঢাল দিয়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণ থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করে, ঠিক তেমনি রোজা জ্বীন ও মানুষ শয়তানের আক্রমণ তথা শরীয়ত বিরোধী সকল কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখার মাধ্যমে রোজাদারদেরকে রক্ষা করে। ঠিক তেমনি পরকালেও জাহান্নাম থেকে রোজা রোজাদারদেরকে রক্ষা করবে। (বায়হাকী শুআবুল ঈমান, মিশকাত শরীফ-১৭৩)

রোজা এবং কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে:
মাহে রমজানের রোজা এবং পবিত্র কুরআনুল কারীম বান্দার জন্য কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে। যেমনিভাবে হাদিসে পাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) হতে বর্ণিত, মাহে রমজানের রোজা এবং কুরআনুল কারীম কিয়ামতের ময়দানে বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে আমার প্রভু! আমি তাকে (রোজাদারকে) দিনের বেলায় পানাহার এবং নফসের কুপ্রবৃত্তি থেকে নিষেধ করেছি। সুতরাং আপনি তার হকে আমার সুপারিশ কবুল করুন। আর কুরআনুল কারীম বলবে, আমি তাকে (তিলাওয়াতকারীকে) রাতের বেলায় ঘুম থেকে বিরত রেখেছি। সুতরাং আপনি তার হকে আমার সুপারিশ কবুল করুন। অতঃপর উভয়ের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। (বুখারী ও মুসলিম, মিশকাত শরীফ-১৭৩)

রোজাদারের জন্য স্পেশাল জান্নাতের দরজা রাইয়্যান:
রোজাদারের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করার একটি স্পেশাল দরজা থাকবে, ওই দরজা দিয়ে শুধু রোজাদাররা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অন্য কেউ এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। যেমন হাদিসে পাকে এসেছে, হযরত সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, জান্নাতে স্পেশাল একটি দরজা আছে যাকে রাইয়্যান বলা হয়। এই দরজা দিয়ে শুধু রোজাদাররা জান্নাতে প্রবেশ করবে। রোজাদার ব্যতীত অন্য কেউ এই দরজা দিয়ে তাদের সাথে প্রবেশ করতে পারবে না।

রোজাদারের দোয়া আল্লাহর কাছে কবুল:
রোজাদারগণ আল্লাহর কাছে এত বেশি প্রিয় এবং মকবুল যে, তারা আল্লাহর কাছে যেই দোয়া করেন আল্লাহ তায়ালা সাথে সাথে তাদের এই দোয়া কবুল করেন। বিশেষ করে ইফতারের সময় রোজাদারগণ ইফতার সামনে নিয়ে যখন দোয়া করে। রোজাদারের এই দোয়া কবুল করা হয়। যেমন হাদীসে এসেছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ইফতারের সময়ে রোজাদারদের দোয়া প্রত্যাখ্যান হয়না। (ইবনে মাজাহ)

হাশরের ময়দানে রোজাদারদের চেনা যাবে:
হাশরের ময়দানে যারা দুনিয়াতে রোজা রেখেছিলেন, তাদেরকে চেনা যাবে। যেমন হাদিসে পাকে এসেছে, রোজাদারগণ কবর থেকে বের হলে তাদের মুখের সুগন্ধি দ্বারা তাদেরকে চেনা যাবে, তাদের মুখের সুগন্ধি মেশকে চেয়ে উত্তম হবে। ইমাম মকহুল (রা.) বলেন, জান্নাতবাসীরা একটা সুগন্ধী পাবে। তারা বলবে, হে আমাদের প্রভূ! আমরা জান্নাতে প্রবেশ করা থেকে এই সুগন্ধি মতো উত্তম সুগন্ধি আর পাইনি। তখন বলা হবে, এই সুগন্ধি রোজাদারের মুখের। রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ মেশকের চেয়ে সুগন্ধি হওয়া এটা অসম্ভব কিছু নয়। [ইবনে রজব হাম্বলী (রহ.), লাতায়েফুল মাআরিফ, আরবি, পৃষ্ঠা-২৬০]

রোজাদারদেরকে বেহেশতের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে:
রমজান মাসে মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ইবাদত-বন্দেগী তথা ভালো কাজ করে এবং দিনের বেলায় পানাহার থেকে বিরত থাকার কষ্ট সহ্য করে। যারা দিনের বেলায় পানাহার থেকে বিরত থাকার কষ্ট সহ্য করবে কেয়ামত দিবসে এটার বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে বেহেশতের সুগন্ধযুক্ত খাবার ও পানীয় দান করবে। যেমনিভাবে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন কারীমে ইরশাদ করেন, বিগত দিনের (দুনিয়াতে) তোমরা যা প্রেরণ করেছিলে তার প্রতিদানে তোমরা খাও এবং পান করা তৃপ্তি সহকারে। (সূরা আল হাক্কাহ,আয়াত-২৪)

পরিশেষে বলতে পারি, মাহে রমজানের রোজার গুরুত্ব ও রোজাদারের ফযিলত অপরিসীম। আল্লাহ তায়ালার কাছে একজন রোজাদারের সম্মান ও মর্যাদা অনেক বেশি। রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধও মেশকের চেয়ে বেশি সুগন্ধিযুক্ত এবং উত্তম। তাই, আসুন আমরা বরকতময় এই রমজান মাসের রোজা, নামাজ, সাহরি, ইফতারি, তারাবীহ, দান-সদাকা, কুরআনুল কারীমের তিলাওয়াতসহ অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করি। আল্লাহ পাক আমাদেরকে মাহে রমজানের সম্মান ও পবিত্রতা রক্ষা করার পাশাপাশি যাবতীয় ইবাদত-বন্দেগী সুস্থতার সহিত আদায় করার তৌফিক দান করুন, আমীন।

লেখক:
সহকারি মাওলানা,
চরণদ্বীপ রজভীয়া ইসলামিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদরাসা, বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম।
এমফিল গবেষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

This Post Has One Comment

  1. Mohammad Ataullah Khan

    মাশাআল্লাহ♥♥♥

Leave a Reply