You are currently viewing মাহে রমজানে সালাতুত তাহাজ্জুদের গুরুত্ব ও ফজিলত

মাহে রমজানে সালাতুত তাহাজ্জুদের গুরুত্ব ও ফজিলত

মাওলানা মুহাম্মদ আনিসুর রহমান রিজভি

_____________________________
প্রাককথন:
সালাত মুমিনদের নিদর্শন এবং ইমানের পর প্রধান ইবাদত। মুমিনগণ সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করেন। পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পর নফল সালাতের মধ্যে সর্বোত্তম মর্যাদাপূর্ণ এবং বরকতময় সালাত হলো সালাতুত তাহাজ্জুদ। মাহে রমজানে সালাতুত তাহাজ্জুদের সাওয়াব এবং ফজিলত অন্যান্য মাসের নফল সালাতের চেয়ে বহুগুণ বেশি এবং মর্যাদাপূর্ণ। সালাতুত তাহাজ্জুদ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয হওয়ার পূর্বে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর ফরয ছিল। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয হলে সালাতুত তাহাজ্জুদের ফরযিয়্যাত বিলুপ্ত হয়ে যায়। তবে সালাতুত তাহাজ্জুদ মুত্তাকী লোকদের নিদর্শন হিসেবে এখন মুত্তাকী, পরহেযগার ও সূফী-সাধকগণ আদায় করে থাকেন নিয়মিতভাবে‌। মাহে রমজানে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করার একটি স্পেশাল সুযোগ থাকে মুমিনদের। আর এই সুযোগটাকে কাজে লাগানোই হবে মুমিনদের প্রধান কাজ। আজকের প্রবন্ধে মাহে রমজানে সালাতুত তাহাজ্জুদের গুরুত্ব এবং ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

সালাতুত তাহাজ্জুদের বিধান:
সালাতুল তাহাজ্জুদ আদায় করা সুন্নাত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয হওয়ার পূর্বে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর এই সালাত ফরয ছিল। তিনি আবশ্যিকভাবে সালাতুত তাহাজ্জুদ আদায় করতেন। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয হলে এর ফরযিয়্যাত বিলুপ্ত হয়ে যায়। পরবর্তীতে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল পর্যন্ত এই সালাত আদায় করেছিলেন নিয়মিতভাবে। তারই ধারাবাহিকতায় এখনো সুন্নাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিসেবে এর বিধান বহাল আছে। সালাতুত তাহাজ্জুদ অত্যন্ত বরকত ও ফজিলতপূর্ণ সালাত। এর মাধ্যমে মানুষ আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন এবং নৈকট্য লাভ করতে পারে।

সালাতুত তাহাজ্জুদ সংক্রান্ত কুরআনের আয়াত:
কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, হে রাসূল! আপনি রাতের কিছু অংশ তাহাজ্জুদ পড়ুন। এটা আপনার জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব। আশা করা যায় আপনার প্রতিপালক আপনাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে।(সূরা বনী ইসরাইল:৭৯)
এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করার বিধান নাযিল করেন।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাতুত তাহাজ্জুদের বিধান:
পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয হওয়ার পূর্বে সূরা মুযাযাম্মিলের প্রথম আয়াতাংশ ‘ক্বুমিল্লাইলা ইল্লা ক্বালিলা’ দ্বারা তাহাজ্জুদের সালাত নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর ফরয‌ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে যখন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হয়, তখন তাহাজ্জুদের সালাতের ফরযিয়্যাত বিলুপ্ত হয়ে যায়। তবে অতিরিক্ত হিসেবে আদায় করার বিধান ছিল, যা এখনও আছে এবং উম্মতের জন্য নফল সালাত হিসেবে কিয়ামত এর বিধান বহাল পর্যন্ত থাকবে।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতুত তাহাজ্জুদে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করতেন:
সাহরির সময়ে অর্থাৎ শেষ রাতে ঘুম থেকে উঠে সালাতুত তাহাজ্জুদ পড়তে হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে উঠে মিসওয়াক ও উযূ করে সালাতুত তাহাজ্জুদ পড়তেন। তিনি সালাতুত তাহাজ্জুদে দীর্ঘ সময় সময় অতিবাহিত করতেন। যেমন হযরত মুগীরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতুত তাহাজ্জুদে এত দীর্ঘক্ষণ যাবৎ দাঁড়ালেন যে তাঁর পাদ্বয় ফুলে গেল। যখন তাকে বলা হলো আপনি এরুপ কেন করেন? আল্লাহ তাআলা তো আপনার পূর্বাপর সকল গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন। উত্তরে তিনি বললেন, আমি কি আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হবো না?
(বুখারী ও মুসলিম, মিশকাত শরীফ, পৃষ্ঠা:১০৮-৯, হাদিস নং-১১৪৯)
বিশেষ করে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতুত তাহাজ্জুদ নিয়মিত আদায় করতেন। কোন কারণে তিনি এই সালাত আদায় করতে না পারলে ফজর ও যোহরের মধ্যবর্তী সময়ে এর পরিবর্তে বারো রাকআত সালাত পড়ে নিতেন। যেমন হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাথা বা অন্য কোনো কারণে যদি সালাতুত তাহাজ্জুদ আদায় করতে না পারেন, তবে তিনি দিনে বারো রাকআত সালাত আদায় করে দিতেন। (মুসলিম শরীফ:১৬৪০)

সালাতুত তাহাজ্জুদের ফজিলত:
সালাতুত তাহাজ্জুদ ফজিলত সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমের বিভিন্ন আয়াতে এবং নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও বিভিন্ন হাদিস শরীফে এর ফজিলত, গুরুত্ব এবং তাৎপর্য তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেছেন। যেমন হযরত আবূ উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা রাতের (তাহাজ্জুদের) সালাতকে আবশ্যক করে নেবে। কেননা এটা হচ্ছে তোমাদের পূর্বেকার সৎলোকের নিয়ম। তোমাদের জন্য প্রতিপালকের নৈকট্য লাভের পন্থা, গুনাহ মাফের উপায় এবং অপরাধ থেকে বাধাদানকারী। (তিরমিজি: ৩৫৪৯, ইবনে খুজাইমা: ১১৩৫)

আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তিন ব্যক্তির উপর আল্লাহ খুশি হন,
(১) যখন সে রাতে (তাহাজ্জুদের) সালাত আদায় করার জন্য উঠে।
(২) মুসল্লিরা যখন সালাতের জন্য কাতার বাধে।
(৩) সৈন্যদল যখন শত্রুর সাথে যুদ্ধ করার জন্য সারিবদ্ধ হয়।
(শরহুস সুন্নাহ, মিশকাত, পৃষ্ঠা-১০৯, হাদিস নং-১১৫৭)
উপর্যুক্ত হাদিস দুটি থেকে একথা প্রমাণিত হয়, সালাতুত তাহাজ্জদ পূর্বেকার সৎলোকের তথা মুত্তাকীদের নিদর্শন এবং এর মাধ্যমে গুনাহ মাফের কারণ হয়। ভবিষ্যতে তাদেরকে আল্লাহর পক্ষ থেকে ‌গুনাহমুক্ত থাকার বিশেষ ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং নৈকট্য লাভ করা যায়।

সালাতুত তাহাজ্জুদ আদায়কারী ফরযের সমতূল্য সাওয়াব:
ফরয সালাত যেমন পাঁচ ওয়াক্ত আদায় করে পঞ্চাশ ওয়াক্তের সাওয়াব পাওয়া যায় অনুরূপ তাহাজ্জুদ নফল বা সুন্নাত হলেও এতে ফরযের সমতূল্য সাওয়াব পাওয়া যায়। নফল সালাতের ক্ষেত্রে দিনের চেয়ে রাতে সাওয়াব বেশি। আর সালাতুত তাহাজ্জুদ যেহেতু শেষ রাতে ঘুম থেকে উঠে পড়া হয়, সেহেতু এর সাওয়াব অন্যান্য নফল সালাতের চেয়ে বহুগুণ বেশি হবে। যেমন হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি,ফরয সালাতের পর সর্বাধিক শ্রেষ্ঠ সালাত রাতের সালাত। আর এখানে রাতের সালাত বলতে সালাতুত তাহাজ্জুদ’ই উদ্দেশ্যে।
(ইমাম কাস্তালানী: ইরশাদুস সারী: ২/৩০৯, তিরমিজি: মুখতাসারুল আহকাম: ২/৩৯৩)

সালাতুত তাহাজ্জুদ আদায়কারীর গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়:
সালাতুত ‌তাহাজ্জুদ আদায়কারীর জন্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ক্ষমা ঘোষণা দেয়া হয়েছে। যেমন হযরত আবূ উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা রাতের (তাহাজ্জুদের) নামাজকে আবশ্যক করে নাও।‌ কেননা এটা হচ্ছে তোমাদের পূর্বেকার সৎলোকের নিয়ম। তোমাদের জন্য প্রতিপালকের নৈকট্য লাভের পন্থা, গুনাহ মাফের উপায়।
(ইমাম তাবরানি: আল-মুজামুল আওসাত: ৩/৩১১)

সালাতুত তাহাজ্জুদ মুত্তাকী লোকদের নিদর্শন:
নবীজি সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ফরয সালাতের পর সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ সালাত হলো রাতের সালাত। শেষ রাতে আল্লাহ তাআলা নিকটবর্তী আসমানে এসে বান্দাগণকে আহবান করেন। তোমাদের মধ্যে কে আছ! গুনাহের ক্ষমা প্রার্থনাকারী? কে আছ! রহমত তালাশকারী? তোমরা গুনাহের ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং রহমত চাও ‌এই বলে ঘোষণা দেন। তখনই ‌মুত্তাকী,পরহেযগার, সূফী-সাধকগণ সালাতুত তাহাজ্জুদ আদায় করেন। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আরাম ত্যাগ করেন নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করেন।

সালাতুত তাহাজ্জুদ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম:
সালাতুত তাহাজ্জুদ আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং নৈকট্য লাভ করা যায়। নিয়মিত তাহাজ্জুদ আদায়কারী ব্যক্তিদেরকে আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন এবং তাদের দোয়া আল্লাহ তাআলা কবুল করে থাকেন। তারা আল্লাহর কাছে যা চাইবেন, আল্লাহ তাআলা তাই দান করেন। সালাতুল তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে, তাদেরকে আল্লাহ তাআলা বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেন।
(তিরমিজি, মিশকাত:১১৫৬)

সালাতুত তাহাজ্জুদ আদায়কারীর জন্য জান্নাতে উন্নত খাবারের ব্যবস্থা:
নিয়মিত সালাতুত তাহাজ্জুদ আদায়কারী ব্যক্তিদের জন্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অশেষ নিয়ামত এবং নানা পুরস্কারের কথা কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তাদের জন্য আল্লাহ তাআলা জান্নাত নির্ধারণ করে রেখেছেন। হযরত আবু মালিক আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, জান্নাতে এমন উন্নত বালাখানা রয়েছে যার ভিতর থেকে বাইরে এবং বাহির থেকে ভিতরে দেখা যায়। আল্লাহ তাআলা তা নির্মাণ করেছেন ঐ ব্যক্তির জন্য যে নম্র কথা বলে, যে ক্ষুধার্ত মানুষের সেবা করে, যে নিয়মিত রোজা রাখে এবং যে রাতে সালাত পড়ে যখন মানুষ ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে।
(ইবনে হাজর আসকালানী: তাখরীজু মিশকাতুল মাসাবীহ: ২/৪৭)

সালাতুত তাহাজ্জুদের নিয়ত ও আদায়ের নিয়ম:
সালাতুত তাহাজ্জুদের নিয়ত ও নিয়ম জানা থাকলে আপনিও এই ফজিলতপূর্ণ সালাত আদায় করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও নৈকট্য লাভের জন্য চেষ্টা করতে পারেন। সালাতুত তাহাজ্জুদের নিয়ত “নাওয়াইতু আন ওসাল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা রাকয়াতাই সালাতিত তাহাজ্জুদ সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তায়ালা মুতাওজ্জিহান ইলা যিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার”
এটা ৪,৬,৮,১০,১২ ইত্যাদি রাকআত আদায় করতে পারে। কেউ আরো বেশি আদায় করতে চাই, করতে পারবে। যেহেতু এগুলো নফল সালাত এবং রাকয়াত সংখ্যাও নির্দিষ্ট নাই। তাই যে যত বেশি এই নফল সালাত আদায় করবে সে তত বেশি সাওয়াব পাবে এবং কল্যাণ লাভ করতে পারবে।
(বাহারে শরীয়ত: খন্ড-৪, পৃষ্ঠা-২৮, আবু নাইম,খুলইয়াতুল আউলিয়া: ৫/৬৫)

মাহে রমজানে তাহাজ্জুদের সুবর্ণ সুযোগ:
মাহে রমজানে বান্দার জন্য শ্রেষ্ঠ একটি মাস।এই মাসের ইবাদত-বন্দেগীর সাওয়াব অন্য যে কোনো মাসের চেয়ে বহুগুণ বেশি। অন্য মাসের সালাতুত তাহাজ্জুদ আর মাহে রমজানের সালাতুত তাহাজ্জুদের মধ্যে বিস্তর ফারাক আছে। রমজানে নফল সালাত আদায় করলে অন্য মাসের ফরযের সমতূল্য সাওয়াব পাওয়া যায়। আর রমজান মাসে রোজাদারগণ যেহেতু সাহরি গ্রহণ করার জন্য উঠে, একটু আগেভাগেই উঠে এই ফজিলতপূর্ণ সালাত আদায় করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং ক্ষমাপ্রার্থনার সুবর্ণ সুযোগ টাকে কাজ লাগিয়ে অশেষ কল্যাণ লাভ করতে পারে।

মাহে রমজানে সালাতুত তাহাজ্জুদের ফজিলত:
আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য স্পেশাল কতগুলো মাস, রাত, দিন এবং পেশাল কতগুলো সময় দিয়েছেন। যার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের সুযোগ লাভ করে। মাহে রমজান তেমনি একটি মর্যাদাবান ও ফজিলতপূর্ণ মাস। অন্যান্য মাসের সালাতুত তাহাজ্জুদের ফজিলত ও তাৎপর্য তো আছেই রমজান মাসে এই সালাতুত তাহাজ্জুদের ফজিলত, গুরুত্ব ও তাৎপর্য অন্যান্য মাসের চেয়ে বহুগুণ বেশি এবং মর্যাদাপূর্ণ। আর সাওয়াব আধিক্যের এই ফজিলত শুধুমাত্র মাহে রমজানের কারণে হয়ে থাকে।
(মুসলিম: ২৬৭৮, ইবনে মাজাহ: ৩৮২১)

সালাতুত তাহাজ্জুদের আবশ্যকীয়তার ব্যাপারে নবীজির ঘোষণা:
সালাতুল তাহাজ্জুদ আদায় করা অত্যন্ত সাওয়াব জনক ইবাদত এবং দুনিয়ার সমস্ত কিছুর চেয়েও শ্রেষ্ঠ এবং উত্তম। হযরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, বান্দা শেষ রাতে দু’রাকাত নামাজ পড়া পার্থিব সবকিছুর চেয়ে উত্তম। যদি এটা আমার উম্মতের উপর আমি ভারী মনে না করতাম তাহলে তাদের উপর ঐ দু’রাকাত নামায ফরয করে দিতাম। (আল-ইরাকী: তাখরীজুল ইয়াহইয়া: ১/৪৬৫)

মাহে রমজানের তাহাজ্জুদ বান্দার জন্য সুপারিশকারী:
মাহে রমজান যারা আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগী করার উদ্দেশ্যে রাতের বেলায় জাগ্রত থেকে সালাতুল তাহাজ্জুদ আদায় করে, সালাতুল তাহাজ্জুদ কেয়ামতের ময়দানে ঔ বান্দার জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে সুপারিশ করবে। নামাজ বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমি এই ব্যক্তিকে রাতের বেলায় ঘুমাতে দেয়নি। এই ব্যক্তি তোমার আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেছে। সুতরাং তার পক্ষে আমার সুপারিশ কবুল করুন, অতএব সালাতুত তাহাজ্জুদের সুপারিশ কবুল করা হবে।
(তিরমিজি: আত-তারগীব ওয়াত তারহীব:২/১০৮)

শেষ কথা:
পরিশেষে বলতে পারি, সালাতুত তাহাজ্জুদ মুত্তাকী লোকদের নিদর্শন হিসেবে এখনও মুত্তাকী, পরহেযগার ও সূফী-সাধকগণ আদায় করে অনেক সাওয়াবের অধিকারী হচ্ছে। আসুন, আমরাও এই বরকতময় মাহে রমজানে বরকতমন্ডিত ও ফজিলতপূর্ণ সালাতুত তাহাজ্জুদ আদায় করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে দুনিয়া-আখেরাতের অশেষ কল্যাণ অর্জনের চেষ্টা করি‌। সাথে সাথে মহান আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদেরকে গুনাহমুক্ত রেখে জীবন পরিচালনা করার এবং তাঁর সন্তুষ্টি মোতাবেক ইবাদত-বন্দেগি করার তৌফিক দান করেন। আমিন।।

লেখক:
সহকারী মাওলানা,
চরণদ্বীপ রজভীয়া ইসলামিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদরাসা, বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম।
এমফিল গবেষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

#chattrasenacentral#IT_Cell_Sena

Leave a Reply